31.2 C
Chittagong
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪
প্রচ্ছদস্বাস্থ্যশেভরণে সবই ভুল!

শেভরণে সবই ভুল!

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বির্তক যেন পিছু ছাড়ছে না চট্টগ্রামের শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবের। একের পর এক ভুক্তভোগীর অভিযোগে জরিমানা ও সাময়িক বন্ধ হলেও বন্ধ হচ্ছে না ল্যাব টেস্টের নানান অসঙ্গতি। এর আগে গত ১৭ জুলাই ডেঙ্গু টেস্টে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগে শেভরণ ল্যাব বন্ধ করে দেন সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী। এবার ৮ বছর আগে মারা যাওয়া এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নামে রোগীকে পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন শেভরণ কর্তৃপক্ষ।

এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগটি পেয়ে বেসরকারি ওই ল্যাবের ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়।

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, রোকেয়া বেগম নামে ৫৮ বছর বয়সী এক রোগী শেভরনে যান। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে ইকো-কার্ডিওগ্রাফি করান। ডা. মো. রেজাউল করিমের নাম ব্যবহার করে গত ২৬ আগস্ট রিপোর্টটি দেওয়া হয়। অথচ রেজাউল করিম ২০১৫ সালে ২২ জুন মারা যান। মারা যাওয়া ব্যক্তি কীভাবে রিপোর্ট দেন, সেটির কারণ জানতে চায় সিভিল সার্জন অফিস।

নোটিশে আরও বলা হয়, ডা. মো. রেজাউল করিমের নাম ব্যবহার করে স্বাক্ষর ছাড়া রিপোর্ট প্রদান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪৫ ধারা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শেভরণ ক্লিনিক স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষাকারী সেবামূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছে, তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা অসতর্কতা প্রমাণ। যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫২ ও ৫৩ ধারা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বা চিকিৎসকের ভুয়া নাম ও পদবি ব্যবহার বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর পরিপন্থী।

সিভিল সার্জনের পাঠানো নোটিশে বলা হয়, এর আগে শেভরণের বিরুদ্ধে ডেঙ্গু পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি গ্রহণের অভিযোগে ল্যাব সাময়িক বন্ধসহ কঠোর সতর্ক করা হয়। শেভরণের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার কারণও তিন দিনের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শেভরণের ম্যানেজার পুলক পাড়িয়ালের মুঠোফোনে একাধীকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, সেভরণ ভুল স্বীকার করে তারা লিখিতভাবে জবাব দিয়েছেন। এই ধরণের ভুল ভবিষ্যতে হবে না বলেও লিখিত স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ জুলাই ডেঙ্গু পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করায় অভিযোগে শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। একদিন পর আবার ল্যাবটি খোলা দেওয়া হয়। ওই সময় ল্যাবটির বিরুদ্ধে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকার পরিবর্তে ডেঙ্গু এনএস ওয়ান পরীক্ষার ফি ১ হাজার ৬০০ টাকা ও আইজিজি বা আইজিএম পরীক্ষার ফি ১ হাজার ২০০ টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছিল।

সর্বশেষ