27.9 C
Chittagong
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪
প্রচ্ছদউপজেলাচট্টগ্রাম জেলায় গৃহহীন পরিবার ২৫০টি ঘর পাবেন মঙ্গলবার

চট্টগ্রাম জেলায় গৃহহীন পরিবার ২৫০টি ঘর পাবেন মঙ্গলবার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চট্টগ্রাম জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রকল্পের দ্বিতীয়ধাপের ৫ম পর্যায়ের ২শ ৫০টি ঘর পাবেন চট্টগ্রাম জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার।

আগামীকাল ১১জুন, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ, মীরসরাই, সীতাকুন্ড উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে এই ঘর প্রদান করা হবে। চন্দনাইশ ১শ ৫৫টি, সীতাকুণ্ড ৪৫টি, মীরসরাই ৩৪টি পরিবারকে গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ও ঘোষণা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি আমরা। তিনি বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর কন্যা দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বাসস্থান নিশ্চিতের ঘোষণা দেন। সরকারি উদ্যোগে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ভূমি ও গৃহ প্রদানের এ নজির পৃথিবীর বুকে অনন্য। যোগ করেন তিনি।

গৃহহীন এই প্রকল্পে নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অসহায় পরিবারগুলোকে জমিসহ যে হস্তান্তর করা হয়েছে সেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সমান অংশ প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ১ম বার সরকার গঠনের পর ১৯৯৭ সালে আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি অর্থায়নে প্রথম উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করেন “আশ্রয়ণ প্রকল্প”।

‘মুজিব শতবর্ষে একজন লোকও গৃহহীন থাকবে ন’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২শতাংশ জমিসহ সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ঘর প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।

ভূমিহীনতারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম জেলায় ১ম পর্যায়ে এক হাজার ৪শ ৪০টি ঘরের বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ২য় পর্যায়ে ৬শ ৪৯টি ঘরের বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৩য় পর্যায়ে ১ হাজার ৯শ ৬২টি ঘরের বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪র্থ পর্যায়ে ১ হাজার ২শ ২৩টি ঘরের বরাদ্দ প্রদান করা হয়। বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘরসমূহ ইতোমধ্যে উপকারভোগীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে এবং উপকারভোগী পরিবারসমূহ উক্ত ঘরসমূহে বসবাস করছেন।

সন্দ্বীপ উপজেলায় নির্মাণাধীন ৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যে ৩টি আশ্রয়ণ প্রকল্প বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ টি আশ্রয়ণ প্রকল্প হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন। উক্ত প্রকল্পসমূহে ৯শ ২৩ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে।

৫ম পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩শ ৮৮টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। তারমধ্যে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ৮১ টি পরিবারকে গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন করা হয়।

মীরসরাই উপজেলার জন্য নতুনভাবে ৭৩ টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। যার নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পর্যায়ে।

এছাড়াও জরাজীর্ণ ব্যারাকের স্থলে একক গৃহ নির্মাণের জন্য ১১৬ টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। তন্মধ্যে বিগত ১৪ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে ১০০ পরিবারকে গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন করেন। আগামী ১১ জুন ২০২৪ তারিখে অবশিষ্ট ১৬ টি পরিবারকে গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন করা হবে।

ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম জেলার ১৫ টি উপজেলার মধ্যে ১২টি উপজেলা যথাক্রমে পটিয়া, কর্ণফুলী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, রাউজান, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, মীরসরাই উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড, চন্দনাইশ ও সন্দ্বীপ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করার জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প কার্যালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত তিনটি উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে এবং একই সাথে চট্টগ্রাম জেলাকেও ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে।

সর্বশেষ