31.2 C
Chittagong
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪
প্রচ্ছদচট্টগ্রামভর্তি বাণিজ্য: মানবিক ‘মুখোশ’ পরা ‘লুটেরা’ জাবেদ, ১ বছরে ৩১ লাখ টাকা...

৪ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ভর্তি বাণিজ্য: মানবিক ‘মুখোশ’ পরা ‘লুটেরা’ জাবেদ, ১ বছরে ৩১ লাখ টাকা পকেটে

  জালালউদ্দিন সাগর

মানবিক মানুষের ‘মুখোশ’ পরা ভয়ংকর এক ‘লুটেরা‘ চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কার্য নির্বাহী পর্ষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাবেদ আবছার চৌধুরী। ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ ব্যবহার করে একাডেমি ট্রান্সফারের সুযোগসহ গরিব কোটায় এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি করানোর কথা বলে এক বছরে (২০২১-২২ শিক্ষা বর্ষ) চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন ৩১ লাখ টাকা-এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীসহ স্বজনদের।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তি বাণিজ্যের নামে শুধু অর্থই হাতিয়ে নিচ্ছেনা না, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও ধ্বংস করছেন এই জাবেদ। তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সুচতুর প্রতারক জাবেদ আবছার চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাইছেন না বেশিরভাগ ভুক্তভোগী, প্রকাশ করতে চাইছেন না শিক্ষার্থীদের নামও। শুধু তাই নয় তার এই অপকর্ম গোপন রেখে ভর্তি বাণিজ্য কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন তারই ব্যবসায়ীক পার্টনার শাকিল মাহমুদের ছেলে আবির মাহমুদকে। ভর্তি বাণিজ্যের তথ্যগোপন করে আবির মাহমুদ স্বাক্ষরিত চেক দিয়েছেন ভুক্তভোগীদের।- ক্লিক নিউজ বিডির কাছে মুঠোফোনে এমন অভিযোগ করেছেন আবির মাহমুদ নিজেই। তিনি বলেন, জাবেদ আবছার আমাকে চৌধুরী ‘ব্যবহার‘ করেছে।

অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে ক্লিক নিউজ বিডি। জানা গেছে, চার শিক্ষার্থীর মধ্যে মিতু (ছদ্মনাম) নামে এক শিক্ষার্থীর স্বজনের কাছ থেকে জাবেদ আবছার চৌধুরী হাতিয়ে নিয়েছেন ৯ লাখ টাকা।

‘একাডেমি ট্রান্সফার (মাইগ্রেশন) করে দেওয়ার কথা বলে সালমা (ছদ্মনাম) নামে অপর এক শিক্ষার্থীর স্বজনদের কাছ থেকে নিয়েছেন ৮ লাখ টাকা ও বাঁশখালীর বাসিন্দা হামিম নামে অপর এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন ৬ লাখ টাকা ‘

এর আগে তামিম নামে এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষাসনদ ৯ মাস আটকে রাখার অভিযোগে জাবেদ আবছার চৌধুরীর ভর্তি বাণিজ্যকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে ক্লিক নিউজ বিডি।

ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীদের সাথে জাবেদের কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ড, ভর্তি করাতে না পারার কারণে অর্থ ফেরত দেওয়া চেকসহ নানান তথ্যউপাত্ত ক্লিক নিউজ বিডি’র হাতে এসেছে। এছাড়া ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন-এমন দুই ব্যক্তির সাথে কথা বলে জাবেদের ভর্তি বাণিজ্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বজনরা জানান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে বিশেষ কোটায় ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত চাইলে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন জাবেদ। আবার অনেকে জাবেদের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করে ঘুরছেন আদালতের বারান্দায়।

জাবেদ আবছার চৌধুরী
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হামিমের স্বজনকে দেওয়া জাবেদ আবছারের ক্যাশ না হওয়া চেক

হামিম উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ২৬ মার্চ আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে জাবেদ চৌধুরীর সাথে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে মা ও শিশু হাসপাতালে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি করানোর সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন জাবেদ। পরে আলোচনার মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২২ সালের ৩১ মে জাবেদ আবছার চৌধুরীর ব্যাংক এশিয়ার হিসাব নম্বরে দুটি চেকে (৫,৫০,০০০+৫০,০০০/-) সর্বমোট ৬ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এই চেকগুলো আমার বড় মামা মমতাজুল হক চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান ‘রবিন শিপিং কর্পোরেশন’-এর হিসাব নম্বর থেকে দেওয়া হয়েছিল; যোগ করেন হামিম।

ভর্তির বিষয়ে জাবেদ আবছার চৌধুরীকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী হামিম উদ্দিনের মামা শহীদুল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, অর্থ ফেরত চাইলে তালবাহানা শুরু করে জাবেদ। তিনি বলেন, জাবেদ আবছার এন.এ.সি অটোমোবাইল হিসাব থেকে ৬ লাখ টাকার একটি চেক দেয় ( হিসাব নম্বর 00533005771, চেক নম্বর 2207517 তারিখ 18/09/2022)।

সেই চেক ক্যাশ না হওয়ায় পরে ‘আবির মাহমুদ’ নামে স্বাক্ষরিত ৬ লাখ টাকার আরও একটি চেক প্রদান করে জাবেদ আবছার চৌধুরী। কিন্ত সেটিও ক্যাশ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আবির মাহমুদের দেওয়া চেক ক্যাশ না হওয়ার পর বিষয়টি আবির মাহমুদের বাবাকে জানাই। বিষয়টি জানার পর আবির মাহমুদের বাবা শাকিল মাহমুদ তার প্যারড কর্ণারের বাসাতে একটি বৈঠক করেন। সেখানে যাবেদ আবছার চৌধুরীসহ তার ছোট ভাই আকবর আবছার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে আমাদেরকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা পরে দিবে বলে জাবেদ আর দেয়নি।

এদিকে সেলিনা (ছদ্মনাম) নামে এক শিক্ষার্থীর একাডেমি ট্রান্সফার (মাইগ্রেশন) করিয়ে দিবে বলে তার স্বজনদের কাছ থেকে জাবেদ আবছার চৌধুরী ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ক্লিক নিউজকে নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর প্রবাসী দুই ভাই আইয়ুব ও শাহজাহান।

বোনের মাইগ্রেশনের জন্য জাবেদ আবছার চৌধুরীকে ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শাহজাহান বলেন, আমরা জাবেদের কাছে টাকা চাইলে আমি ও আমার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে (মারধর-হুমকি) মামলা করে জাবেদ। কিন্তু জাবেদকে আমরা কোনো হুমকিধমকি দিচ্ছি বা দিয়েছি এরকম কোনো রেকর্ড নাই; যোগ করেন শাজাহান।

প্রতারক জাবেদ আবছার চৌধুরীতিনি বলেন, জাবেদ যে মাসে আমার ছোট ভাইকে অভিযুক্ত করে মামল করে এর চার মাস আগে ছোট ভাই বিদেশে চলে যায়। আমার ছোট ভাই নাকি তাকে গত মাসে অর্থাৎ মামলা রুজুর আগের মাসে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।

শাজাহান বলেন, আমাদের কাছে সব ডকুমেন্ট আছে। স্বাস্থমন্ত্রী, স্বাস্থ সচিবসহ স্বাস্থ মন্ত্রণালয়ে দুই লাখ টাকা দিয়েছে বলে জাবেদ আমাদের বলেছে সব রেকর্ডও আছে। বিষয়টি আমরা আমাদের আত্মীয় আওয়ামী লীগের হাজী ইকবালকে জানিয়েছিলাম। পরে ওনার বাসায় জাবেদকে নিয়ে একটা বৈঠকও হয়েছিল।

জাবেদ আবছার চৌধুরীর ভর্তি ও একাডেমি ট্রান্সফার বাণিজ্যের বিষয়টি অবগত আছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ হাজী ইকবাল ক্লিক নিউজ বিডিকে জানান, আমার এক আত্মীয়ের মেয়েকে মাইগ্রেশন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল জাবেদ আবছার। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর আমি জাবেদকে আমার বাসায় ডাকি। একাডেমি ট্রান্সফারের নামে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দিবে বলে জাবেদ আমাকে বলেছিল। পরে দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমার জানা নাই।

জাবেদ আবছার চৌধুরী
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর স্বজনকে দেওয়া জাবেদ আবছারের ক্যাশ না হওয়া চেক

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাই আইয়ুব বলেন, জাবেদ আবছার চৌধুরী আমাদের হুমকি দিয়েছিল মাইগ্রেশনের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমার বোনকে কোনো মেডিকেলেই পড়তে দিবে না। বোনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই বিষয়টি নিয়ে আমরা কোনো পদক্ষেপ নেই নাই।

তিনি আরও বলেন, জাবেদ আবছারির হাত অনেক বড়। মন্ত্রী-সচিবদের সাথে সম্পর্ক। সে ভয়ে আমরা এতোদিন চুপ ছিলাম। যোগ করেন আইয়ুব।

অপরদিকে প্রবাসী মোহাম্মদ ইদ্রিসের মেয়ে (জিতু) নামে এক শিক্ষার্থীকে ২০২১-২২ শিক্ষা বর্ষে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে বিশেষ কোটায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথা বলে জাবেদ আবছার চৌধুরী স্বজনদের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন মো. ইদ্রিসের ব্যবসায়িক পার্টনার রুমেল। ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে জাবেদ আবছারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগও রেখেছিলেন তিনি।

ক্লিক নিউজ বিডিকে রুমেল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জাবেদের মানবিক কর্মকাণ্ড দেখে আমরা তার প্রতি আগ্রহী হই। পরে পরিচিত একজনের মাধ্যমে জাবেদের সাথে যোগাযোগ করি। বিশেষ কোটায় ভর্তি করানোর সুযোগ আছে বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করে সে। পরে ৯ লাখ টাকায় তিনি ভর্তি করাতে পারবেন বলে আমাদের জানালে আমরা তার কথামতো জাবেদ আবছার চৌধুরীর সিরাজুদৌলাস্থ বাসায় প্রথমে নগদ ৮ লাখ টাকা এবং একদিন পর আরও এক লাখ টাকা নগদ দিয়ে আসি।

তিনি আরও জানান, কাজ সম্পূর্ণ না হওয়াতে অর্থ ফেরত চেয়ে জাবেদের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন জাবেদ (কমবেশি)। বাকি টাকা পরে দিবে বলে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার দুটি চেক দেন তিনি। এরমধ্যে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার একটি চেক জাবেদ আবছার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এন.এ.সি অটোমোবাইলের হলেও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার অপর চেকটি দেন আবির মাহমুদ নামে জনৈক ব্যক্তির হিসাব থেকে।

ভর্তি বাণিজ্যের শিকার দুই ভুক্তভোগীকে জাবেদ আবছার চৌধুরীর পক্ষে চেক দেওয়ার বিষয়টি ক্লিক নিউজ বিডির কাছে ‍মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন আবির মাহমুদ।

তিনি বলেন, বাবার (শাকিল মাহমুদ) ব্যবসায়িক পার্টনার হওয়াতে জাবেদ আবছার চৌধুরীরকে আমি চিনি। ভিন্নভিন্ন নামে পৃথক সময়ে তিনি আমার কাছ থেকে দুটো চেক নেন। এর মধ্যে ছয় লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয় রবিন শিপিং কপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে এবং এক লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয় মোহাম্মদ এমরানুল নামে এক জনকে।

কোন কারণে এতো বড় অংকের দুটো চেক দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাবেদ আঙ্কেল বলেছিলেন, উনার কাছে চেক বই নাই। পাওনাদারকে দেওয়ার জন্য আপাতত চেকগুলো দরকার। পরে পাওনাদারকে টাকা দিয়ে তিনি চেকগুলো নিয়ে আসবেন।

ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো জানতেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আবির মাহমুদ বলেন, আমি চেকগুলো যখন দিই তখনও জানতাম না। কিন্তু পরে ভুক্তভোগীরা যখন টাকাগুলো পাচ্ছিলো না তখন এ নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়। তখন শুনেছি তিনি এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি কারানোর আশ্বাস দিয়ে টাকাগুলো নিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রুমেল নামে একজনের সাথেও অনেক হ্যাচিং হয়েছিল; যোগ করেন আবির।

ভর্তি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সাথে জড়িত নয় বলে ক্লিক নিউজ বিডি কে জানান জাবেদ আবছার চৌধুরীর ভাই আকবর আবছার চৌধুরী। আবির মাহমুদের বাসায় বৈঠকের বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তামিমের চাচা ফরিদের সাথে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে বলে জানান।

ফরিদের সাথে কী ধরণের ব্যবসা করেন এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান আকবর আবছার চৌধুরী। তিনি বলেন, আপনাকে কেন বলবো; আপনি কে?

এক শিক্ষার্থীকে মাইগ্রেশন করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জাবেদ আবছার চৌধুরীর কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংগ্রহ করেছে ক্লিক নিউজ বিডি। সেখানে জাবেদ আবছার চৌধুরীকে বলতে শোনা গেছে, ‘সময় মতো কাগজপত্র জমা দিতে না পারার কারণে মাইগ্রেশনটা হয় নাই।’ একই অডিওতে ইউএসটিসিতে মাইগ্রেশন করার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিপরীতে থাকা ব্যক্তিকে বলতে শোনা গেছে, ‘মাইগ্রেশন করতে না পারলে ৮ লাখ টাকার পুরোটাই ফেরত দিতে হবে।’

অপর এক অডিও রেকর্ডে জাবেদ আবছার চৌধুরীকে চট্টগ্রামের ভাষায় বলতে শোনা গেছে, ‘এ বছর থেকে মা ও শিশু হসপাতালে ক্ষমতা আর নাই। ক্ষমতা চলে গেছে মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় যেভাবে ডিসিশন দিবে-যেভাবে করবে সেভাবেই আমাদের ফলো করতে হবে।’ কথোপকথনের এক পর্যায়ে ডাইরেক্টর জেনারেলের কথাও উল্লেখ করেন জাবেদ। তিনি বলেন, ‘ডাইরেক্টর জেনারেলের সাথে প্রতিদিন কথা হয়-মুহুর্তে মুহুর্তে কথা হয়। পিএসের মাধ্যমেও কথা হয়।’

প্রতি বছর জাবেদ আবছার চৌধুরী মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসব কাজ করে থাকেন উল্লেখ করে অপর এক অডিও রেকর্ডে জাবেদ আবছার চৌধুরীকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমি কেন ওদের নাম বলবো, ওরা সবাই বিসিএস কর্মকর্তা-নাম বলে ওদের কেন নাজেহাল করবো।’ যোগ করেন জাবেদ।

প্রতারক জাবেদ আবছার চৌধুরীএ বিষয়ে কথা বলার জন্য ৬ ফেব্রুয়ারি সাড়ে ৬টার পর মুঠোফোনে কল দিলে রিসিভ করেননি জাবেদ আবছার। মুঠোফোনের নম্বর ও হোয়াটস অ্যাপে এসএমএস পাঠালে তারও জবাব দেননি।

তবে এর আগে শিক্ষার্থী তামিমকে ভর্তি করানোর নামে ৭ লাখ টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেন জাবেদ আবছার। তবে এই অর্থ তিনি নিজে রাখেননি বলে দাবি করেন। তিনি জানান, বিশেষ কোটা ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকাস্থ একটি এজেন্সি রয়েছে। আমি টাকাগুলো আমার কাছে রাখিনি; তাদের দিয়ে দিয়েছি। তবে বিশেষ ক্যাটাগরির ব্যবস্থাপনায় থাকা সে এজেন্সির নাম প্রকাশ করতে অনিহা প্রকাশ করেন জাবেদ।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের প্রেসিডেন্ট মো. মোরশেদ এং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদের সাথে যোগােযোগ করার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও রিসিভ করেননি। এসএসএম পাঠালেও তার কোনো জবাব দেননি।

আরও সংবাদ পড়ুন:

এমবিবিএস কোর্স ভর্তি বাণিজ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন জাবেদ আবছার!

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে মরিয়া রাজাকার পুত্র জাবেদ আবছার চৌধুরী!

জয়েন্ট স্টক কোম্পানির আড়ালে মুনির চৌধুরীর গোয়েন্দাগিরি! (ভিডিওসহ)

 

ভুক্তভোগীর সাথে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ০১

সর্বশেষ