29.6 C
Chittagong
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪
প্রচ্ছদবন্দর নগরীশিক্ষার্থীর স্মার্ট কার্ডের সংকেতে চলবে বাস, বার্তা যাবে অভিভাবকদের কাছে

শিক্ষার্থীর স্মার্ট কার্ডের সংকেতে চলবে বাস, বার্তা যাবে অভিভাবকদের কাছে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা চিন্তা এবার দূর হচ্ছে অভিভাবকদের। নিজেদের স্মার্ট ফোনে জানতে ও দেখতে পারবেন সন্তানের গতিবিধি, পাবেন বার্তাও। কখন আর কয়টার সময় আপনার সন্তান গাড়িতে উঠেছে এবং কখন কয়টার সময় কোন জায়গায় নামছে সব বার্তাই পেয়ে যাবেন অভিভাবকরা।-অত্যাধুনীক ডিজিটাল ডিভাইসে সংরক্ষণ করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ডাটা। অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা দূর করতে অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের নেওয়া পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের স্কুলে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের সুবিধার্থে আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত দশটি ডবল ডেকার বাস চালু হচ্ছে। এখন শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলছে। দুই এক মাসের মধ্যে এই পরিসেবার আওতায় আসবে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা মাথা রেখেই নগরীতে এমন প্রকল্পের উদ্দেগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে দেশের প্রথম স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করেছি। স্মার্ট স্কুল বাস প্রকল্পের মাধ্যমে একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য রাখি আমরা।

জানা গেছে, ৭৮ আসন বিশিষ্ট ১০টি ডাবল ডেকার স্কুল বাসকে স্মাট বাসে রূপান্তরিত করার প্রকল্প নিয়েছেন জেলা প্রশাসন। বাসগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত করার জন্য একটি অ্যাপ বানানোর কাজও চলছে। ওই অ্যাপে বাসে ওঠার পর শিক্ষার্থীর স্মার্ট কার্ডের সংকেতে চলা শুরু করবে বাসের চাকা। বার্তা যাবে অভিভাবকদের ডিভাইসে। যাতে লিখা থাকবে বাস ছাড়ার জায়গা ও সময়। শিক্ষার্থীরা বাস থেকে নামলে অভিভাবকদের ডিভাইসে আরও একটি বার্তা যাবে, যাতে লেখা থাকবে বাস থেকে নামার সময় ও অবস্থান।

এছাড়া অভিভাবকরা বাসে ইনস্টল করা আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের সন্তানদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে করতে পারবেন। একইসাথে জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে বাসের অবস্থান ট্র্যাক করতে পারেন।নিজেদের কাছে থাকা স্মার্ট কার্ডের ছোঁয়াতেই এখন থেকে ভাড়া পরিশোধ করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। বিকাশ বা নগদের মতো পরিচিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রিচার্জযোগ্য এই স্মার্ট কার্ডগুলো।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, স্কুল বাসগুলোকে স্মার্ট স্কুল বাসে রূপান্তরিত করার জন্য দেশব্যাপী প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর কাছে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতায় জিতলে স্মার্ট স্কুল বাস প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। একটি বাসকে স্মার্ট বাসে রূপান্তর করতে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হবে। অ্যাপস তৈরির কাজ চলছে।

বর্তমানে বহদ্দারহাট-মুরাদপুর থেকে নিউমার্কেট হয়ে চকবাজার-গনি বেকারি-জামালখান-চেরাগী পাহাড়-আন্দরকিল্লা-লালদিঘি কোতোয়ালি এবং অক্সিজেন থেকে মুরাদপুর-২ নম্বর গেট-জিইসি-টাইগার পাস পর্যন্ত পাঁচটি রুটে ১০টি ডাবল-ডেকার বাস চলছে। তা সত্ত্বেও নগরীর হালিশহর, বড়পোল, ইপিজেড, মোহরা এলাকার বেশ কয়েকটি স্কুলে স্কুল বাস নেই। বাসের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেইসাথে রুটগুলোকেও সম্প্রসারণ করার চিন্তা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, পাবলিক বাসে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের একা স্কুলে পাঠান না। অভিভাবকরা তাদের ব্যস্ত রুটিনের মধ্য থেকে সময় বের করে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার ও নিয়ে আসার কাজটা করে। এই কারণে অনেক কর্মজীবী মা চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। স্মার্ট বাস চালু হলে অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তারা আইপি ক্যামেরা এবং জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে তাদের বাচ্চাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনকে (বিআরটিসি) আরো ১০টি বাস বরাদ্দ করার অনুরোধ জানিয়েছি। যেন রুট সম্প্রসারণ করা যায়। প্রকল্পটি চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসন করবে, একইসাথে অভিভাবকদের সময় বাঁচবে; যোগ করেন জেলা প্রশাসক।

সিএস

সর্বশেষ