29.6 C
Chittagong
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪
প্রচ্ছদবান্দরবানস্বাস্থ্য ভালো নেই থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র, ৪২ পদ শূন্য!

স্বাস্থ্য ভালো নেই থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র, ৪২ পদ শূন্য!

  নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য বিভাগের ঘোষণাকৃত বান্দরবানের থানচি উপজেলা ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া জোন হিসেবে বিবেচিত। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান। যেকোনও সময় যেকোনও স্থানে হতাহতের হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রয়োজন অতিরিক্ত চিকিৎসকের। এছাড়া পাহাড়ে সামান্য বৃষ্টিতে ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা।

থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ১৩ জন আবাসিক চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ৫ জন কর্মরত রয়েছে। তারমধ্যে দুই জন চিকিৎসক রয়েছেন প্রেষণে। সেই সাথে প্রেষণে রাখা হয়েছে প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক, ক্যাশিয়ার ৩ জনকে। এর ফলে বান্দরবানের থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

জানা যায়, থানছি উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ স্থায়ী ও অস্থাযীভাবে বসবাস করে। পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে সবসময় বান্দরবানের থানছি উপজেলাটি অন্যতম। সবসময়ই এই এলাকাটিকে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। ঝুকিপূর্ণ পাহাড় পর্বত আরোহনে প্রায় সময় পর্যটকদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।সেই সময় তারা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পেতে ছুটে যান থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আরও অধিকতর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট থানছি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করে সরকার। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, হাসপাতালের প্যাথলজি, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ওষুধসহ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দুর্গম পাহাড়ের বাসিন্দারা। এতে করে এই এলাকার মানুষজন সেবা পেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে সরকারী ভাবে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ১৩ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন ৫ জন। এর মধ্যে ২ জন বন্দরবান সদর হাসপাতালের প্রেষনে। সিনিয়র-জুনিয়র নার্স ১৮ জনের স্থলে আছেন ৪ জন, ১৪ জনের পদ শূন্য। মিডওয়াইফ ৪ জনে স্থলে আছেন ৩ জন, ১ জন শূন্য। স্বাস্থ্য সহকারী ১৩ জন স্থলে আছে ৬ জন, ৭ জন শূন্য।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) ৭ জন স্থলে আছে ৬ জন, ১ জন শূন্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১ জন স্থলের কেউ নেই। নাইট গার্ড ২ জন স্থলের আছেন ১ জন, অপরজন বান্দরবানের প্রেষনে রয়েছে।ক্যাশিয়ার ও প্রধান সহকারী ২জনকে বান্দরবানে প্রেষনে রাখা হয়েছে।

প্যাথলজি ২ জন রয়েছে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৪ জনের স্থলে ৩ জন আছেন, ১ জন শূন্য।ল্যাব টেকনিশিয়ান ২ জনের মধ্যে ১ জন, অপরজন শূন্য। ফার্মাসিস্ট ২ জন মধ্যে শূন্য ও মেডিকেল টেকনোলজি রেডিওগ্রাফার ১জন, তাও শূন্য। আয়া, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার ১৯ জন স্থলের ১৪ জন আছেন ৫ জন শূন্য সব মিলিয়ে ৪২ টি পদে শূন্য রয়েছে।

কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কর্মকর্তাসহ চিকিৎসক চারজনের মধ্যে ২জন প্রেষণে বান্দরবানে আছেন। আমরা দু’জন আছি এখানে। মাসের ১৫ দিন ভাগ করে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।সরকারি চাকরি, কষ্ট হলেও কিছুই করার নেই আমাদের।

থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, গত মাসে কুকি-চিন ন্যাশন্যাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের প্রকাশ্যে ডাকাতি পর যৌথ বাহিনীর অভিযানের দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা দিতে কর্মীদেরআতংঙ্ক সৃস্টি হওয়াই সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য রয়েছে। বর্তমানের আমাদের উপজেলার ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া জোন হিসেবে পরিচিত অঞ্চল। তাই প্রেষণের থাকা কর্মকর্তাদের ফেরত দেয়ার দাবি জানায়।

তিনি আরও জানান, মৌসুমের পাহাড়ে বিভিন্ন রোগ বেশি দেখা দিয়েছে। তাই ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বর, পেটব্যথা, সর্দি-কাশির সেবা দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এ জন্য শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

সর্বশেষ